কচুর লতি র উপকারিতা,পুষ্টিগুণ, রেসিপি, অপকারিতা

বাংলাদেশে বসবাস করি আর কচুর লতি পছন্দ করে না এমন মানুষের সংখ্যা আমার মনে হয় খুব কমই আছে। রুই কিংবা ইলিশ মাছের মাথা অথবা চিংড়ি মাছ দিয়ে কচুর লতি ভাজা খেতে কতো যে সুস্বাদু তা এখানে লিখে বোঝানোর উপায় আমার জানা নেই। আপনি জেনে অবাক হবেন যে এটি খেতে যেমনি সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুনেও ভরপুর। নানা রকম পুষ্টিগুণ থাকায় বর্তমান সময় বাংলাদেশের কচুর লতি ইউরোপের বাজারগুলোতে বেশ চাহিদা সম্পন্ন। বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চলে কচুর লতি পাওয়া যায়। পাহাড় থেকে সমতল সব জায়গাতেই কোন প্রকার যত্ন ছাড়াই এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যায়।

প্রিয় পাঠক আজকের লেখাজুড়ে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো কচুর লতির পুষ্টিগুন, খাওয়ার উপকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তো আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

কচুর লতি কি?

ইংরেজিতে কচুর লতিকে Arum lobe বলা হয়। এতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি, আয়োডিন, আয়রন বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল এটি দেখতে পাওয়া যায়।

কচুর লতির পুষ্টি উপাদান

Arum lobe বা কচুর লতিতে রয়েছে আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি, আয়োডিন, আয়রন। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স গ্রুপের ভিটামিন যেমন- ভিটামিন বি ৬, রিবোফ্লোভিন, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড এবং থায়ামিন। ১০০ গ্রাম ট্যারো স্টোলন বা কচুর লতি থেকে প্রায় ১১২ ক্যালোরি পাওয়া যায়।

কচুর লতি খাওয়ার উপকারিতা

সম্মানিত পাঠক, কচুর লতির উপকারিতা জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। আপনি হয়ত কল্পনাও করেতে পারবেন না এটি খেলে আপনার স্বাস্থ্যে কি কি উন্নতি ঘটবে। কচুর লতি উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ একটি খাবার যা আমাদের হজমের ক্ষমতা উন্নতি করতে সাহায্য করে। এতে থাকা আয়োডিন ও আয়রন আমাদের দাঁত, হাড় এবং চুল মজবুত করতে কাজ করে। কচুর লতিতে থাকা ভিটামিন বি আমাদের মস্তিষ্কে সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। কচুর লতিতে থাকা ভিটামিন সি আমাদের সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও কচুর লতি আমাদের রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে এবং কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধেও কাজ করে।

কচুর লতির পাশাপাশি কচুর শাক এবং কচুও আমাদের শরীরের জন্য অন্য উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে কালো কচুর ডাটা এবং পাতায় পুষ্টির প্রায় সকল উপাদানই থাকে। এর শাক রাতকানা রোগের আশঙ্কা কমায়।

সতর্কতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কচুর লতিতে নানা পুষ্টিগুণ থাকলেও কিছু কিছু মানুষের জন্য এটি না খাওয়াই উত্তম। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি জনিত সমস্যা আছে। এছাড়াও অনেক সময় ছায়া যুক্ত স্থানে জন্মানো কচুর লতি রান্না করার পরও গলা চুলকায়। তবে এ ক্ষেত্রে খাওয়ার সময় একবারে না নিয়ে সামান্য নিয়ে টেস্ট করে দেখতে পারেন। এছাড়াও কচুর লতি খেলে গলার মধ্যে চুলকানি কমাতে খাওয়ার সময় এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। অথবা রান্নার আগে সামান্য গরম পানিতে কিছু সময় ভিজিয়ে রাখুন।

যাদের খাবার হজমে সমস্যা আছে এবং অতিরিক্ত অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের কচুর লতি না খাওয়াই উত্তম। পাশাপাশি যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল জনিত সমস্যা আছে তারা অবশ্যই কচুর লতিতে চিংড়ি ও শুঁটকি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

এছাড়াও গর্ভাবস্থায় কচুর লতি খাওয়ার পূর্বে ডাক্তারের বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উত্তম।

মাছের মাথা দিয়ে কচুর লতি রেসিপি

আমি যত ধরণের কচুর লতির তরকারি খেয়েছি সবগুলোর মধ্যে মাছের মাথা দিয়ে এই রেসিপিটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মজাদার মনে হয়েছে।

ইলিশ মাছের মাথা (আপনি চাইলে রুই, কাতল কিংবা এজাতীয় বড় মাছের মাথা নিতে পারেন), আধা কেজি লতি, ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজ বাটা/কুচি, আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়া, ৩-৪ টি কাঁচা মরিচ, ১ চা চামচ মরিচের গুঁড়া, স্বাদমতো লবন, তেল এবং রসুন বাটা।

যেভাবে রান্না করবেনঃ প্রথমে মাছের মাথা ভালোভাবে পরিষ্কার করে মাঝখান দিয়ে কেটে নিন এবং লবন দিয়ে ধুয়ে সামান্য হলুদের গুঁড়া ও লব মেখে নিন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করুন এবং গরম তেলে মাথাগুলো ভালো করে ভেজে উঠিয়ে রাখুন। পাতিলে থাকা তেলে পেঁয়াজ বাটা বা কুচি, হ্লুদে মরিচের গুঁড়া, কাঁচা মরিচ, লবন একসাথে ভালো করে কষিয়ে নিন। এর মধ্যে ভাজা মাথাগুলো দিয়ে আরও কিছু সময় কষিয়ে নিন। এপর্যায়ে এর মধ্যে আগে থেকে কেটে পরিষ্কার করে রাখা কচুর লতিগুলো দিয়ে কিছু সময় নাড়াচাড়া করুন এবং ৫ মিনিট মাঝারি তাপে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন। পরিমান মতো পানি দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ঢেকে রাখুন। মাখা মাখা খেতে চাইলে সামান্য ঝোল থাকতে নামিয়ে ফেলুন।

সর্বশেষ

প্রিয় পাঠক, আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আমাদের লেখাটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে জানিয়ে লিখতে পারেন আমাদের কাছে।

আরও পড়ুনঃ হেনা পাউডার ব্যবহারের নিয়ম

Scroll to Top