কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা, পুষ্টিগুণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

মুরগির ডিমের বিকল্প হিসেবে এবং পুষ্টিগুণের কারনে কোয়েল পাখির ডিমের বেশ চাহিদা রয়েছে। তবে মুরগির ডিমের তুলনায় কোয়েলের ডিম আকারে ছোট হলেও এটি খেতে অনেক সুস্বাদু।

প্রিয় ভিজিটর, আজকের লেখাজুড়ে আমি আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবো- কোয়েল পাখির ডিমের পুষ্টিগুণ, খাওয়ার উপকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সতর্কতা। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

পুষ্টিগুণ

বিশেষজ্ঞদের মতে যেহেতু কোয়েল পাখির ডিম হাঁস-মুরগির ডিমের চেয়ে আকারে ছোট তাই তিন থেকে চারটি কোয়েল পাখির ডিম মোটামুটিভাবে একটি মুরগির ডিম পরিবেশনের সমান। একটি ৯ গ্রাম সাইজের কোয়েলের ডিমে যে সকল পুষ্টি উপাদান থাকে তা নিচে দেওয়া হল-

১৪ ক্যালোরি, ১ গ্রাম প্রোটিন, ১ গ্রাম চর্বি, ০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০ গ্রাম ফাইবার, দৈনিক ভ্যালুর ৪% কোলিন, ৬% রিবোফ্লাভিন২% ফোলেট, ৩% প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, ২% ভিটামিন এ, ৬% ভিটামিন বি ১২, ২% আয়রন, ২% ফসফরাস, ৫% সেলেনিয়াম।

কোয়েল পাখির ডিমের উপকারিতা

১) অ্যালার্জি প্রতিরোধে কোয়েলের ডিম

পাবমেড এ প্রকাশিত একটি রিসার্চ অনুসারে কোয়েলের ডিম পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পূর্ণ যা সেলুলার ক্ষতিকে প্রতিহত করতে এবং অ্যালার্জির প্রতিরোধে সহায়তা করে।

২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হওয়া ৭৭ জনের উপর ৭ দিনের একটি গবেষণায় দেখা যায় কোয়েল ডিম এবং জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট গ্রহনের ফলে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যার দারুন উন্নতি হয়।

২) কোয়েল পাখির ডিম ও মাংস প্রোটিনের উৎস

আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় প্রোটিনের একটি দারুন উৎস হতে পারে কোয়েল পাখির ডিম। যা আমাদের শরীরের অনেক প্রক্রিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনগুলি অ্যামিনো অ্যাসিড নামক ব্লিডিং ব্লক দ্বারা গঠিত। যা আমাদের শরীর পেশী এবং হাড় তৈরি ও মেরামত করতে এবং হরমোন ও এনজাইম তৈরি করতে ব্যবহার করে।

৩) হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে

কোয়েলের ডিমে প্রচুর পরিমান উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায় যা আমাদের হার্টের স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে সাহায্য করে। মূলত কোয়েলের ডিমে থাকা চর্বি আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভালো চর্বি দ্বারা গঠিত। যা কোলেস্টেরলের মাত্রাকে ইনিতবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সাহায্য করে।

৪) শরীরের দূষিত পদার্থ দূর করে

আমাদের শরীরের নানা রকম বিষাক্ত পদার্থ, দূষিত এবং ভারী ধাতু রয়েছে। কোয়েলের ডিম গ্রহন আমাদের রক্ত প্রবাহে বিষাক্ত পদার্থ থেকে পরিত্রান পেতে সাহায্য করতে পারে।

৫) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

আমাদের শরীর প্রতিদিন ফ্রি র‍্যাডিকেলগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যা আমাদের কোষকে ক্ষতি করতে পারে। এমনকি এটি আমাদের শরীরে অসুস্থতা ও বার্ধক্য সৃষ্টি করে। কোয়েলের ডিমে ভিটামিন এ উপস্তিত যা আমাদের শরীরের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল নিরপেক্ষ করতে এবং আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।

৬) কোয়েল পাখির ডিম দৃষ্টি শক্তি উন্নত করে

কোয়েল পাখির ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে যা আমদের চোখে ছানি পড়া থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি চোখের অন্যান্য সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া এটি আমাদের হার্ট, ফুসফুস, কিডনি এবং অন্যান্য অঙ্গগুলিকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

৭) কোয়েল পাখির মাংসের উপকারিতা

কোয়েল পাখির মাংসে প্রচুর পরিমান ভিটামিন ই রয়েছে যা অকালে বার্ধক্য প্রতিরোধ করে এবং স্কিনের জন্য বেশ উপকারী। এছাড়াও এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস যা আমাদের হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। কোয়েলের মাংসে পোল্ট্রির চেয়ে বেশি প্রোটিন রয়ছে তবে ক্যালোরি তুলনামূলকভাবে কম।

8) কোয়েল পাখির ডিমের ক্ষতিকর দিক

কোয়েল পাখির ডিম কাঁচা খেলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায় এ নিয়ে একটি মিথ প্রচলিত আছে। তবে এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আপনার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা কোয়েল পাখির ডিম অবশ্যই সিদ্ধ করে খাওয়ার পরামর্শ দেয়। আপনার যদি ডিম খাওয়ার ফলে অ্যালার্জি দেখা দেয় তাহলে এটি এড়িয়ে চলা উত্তম। এছাড়াও গর্ভবতী মায়েদের জন্য কুসুম সহ কোয়েলের ডিম না খাওয়া উত্তম।

সর্বশেষ

কোয়েল পাখির ডিম খেতে অনেক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। যা আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পুষ্টি তালিকায় যোগ করতে পারেন। তবে আপনার অ্যালার্জি সমস্যা থাকলে অথবা আপনি গর্ভবতী হয়ে থাকলে অবশ্যই ডাক্তার কিংবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

প্রিয় পাঠক, আমাদের লেখা নিয়ে আপনাদের কোন মতামত কিংবা জিজ্ঞাসা থাকলে লিখতে পারেন আমাদের কাছে।

আরও পড়ুনঃ কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

Scroll to Top